
সারা লাইফস্টাইল এর সাবব্র্যান্ড ‘ঢেউ’ কে ওয়েস্টার্নধর্মী দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য
Published: 1st January 1, 12:00 AM
DHEU by SaRa
সারা লাইফস্টাইলের মূল কোম্পানি স্নোটেক্সের শুরু ১৯৯৮ সালে।স্নোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম খালেদ বলছিলেন, তৈরি পোশাকশিল্পে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বের বাজারে যারা এখন নামকরা ও গুরুত্বপূর্ণ বায়ার, তাদের অনেকেই একসময় এমন ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁদের দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষকে সঠিক মূল্যে আন্তর্জাতিক মানের পোশাক উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই ২০১৮ সালে তাঁরা শুরু করেন সারা লাইফস্টাইল, বলেন তিনি।স্নোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম খালেদ অবশ্য জানালেন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—সোর্সিং, উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সিদ্ধহস্ত হলেও সারা লাইফস্টাইল শুরু করতে গিয়ে তাঁদের ব্র্যান্ডিংয়ের ব্যাপারগুলো নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করতে হয়েছে। তিনি বললেন, এখনো শিখছেন একটু একটু করে। ডিজাইনের ক্ষেত্রেও অনেক পথ চলা বাকি বলে তিনি মতামত দেন। তাঁর বয়ানে জানা গেল, ২০১৯ সালে সারা লাইফস্টাইলের আউটলেটের সংখ্যা হয় ৫। এভাবে আগামী বছরের মধ্যে আউটলেট ১৫ থেকে ২০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা তাঁদের। বর্তমানে ঢাকা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে মোট ১০টি আউটলেট রয়েছে। শীঘ্রই বগুড়া ও সিলেটে আরও দুটি আউটলেট উদ্বোধন করা হবে বলে জানান তিনি।
সারা লাইফস্টাইলের পরিচালক শরিফুন রেবা শুরুতেই সারা লাইফস্টাইলে তাঁদের কাজের মূলমন্ত্র সম্পর্কে ধারণা দিলেন। তিনি বলেন, পুরো উৎপাদনের প্রক্রিয়ার প্রাণভোমরাই হচ্ছে সুচিন্তিত গবেষণার ধাপগুলো। আন্তর্জাতিক, বিশেষত ভারতের ফ্যাশন ট্রেন্ডই কিছুদিন পরে এদেশে সমাদৃত হয় বলে তিনি জানান। আবার দ্রুত পরিবর্তনশীল কাট, প্যাটার্ন ও সিলোয়েটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজাইন ও উৎপাদনের বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগোচ্ছে সারা লাইফস্টাইল, মতামত তাঁর। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একটি সুচিন্তিত ভারসাম্যসূচক মূল্যে যদি বায়ারদের তৈরি পোশাক দেওয়া যায়, তবে দেশীয় ক্রেতাদের কেন নয়! এটিই ছিল কাজের ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তিনি বললেন, এখনো মান ও মূল্যের সঠিক ভারসাম্যের দিক থেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরও অনেক পথ চলতে হবে সারা লাইফস্টাইলকে। অবশ্য সঠিক পথে এগোনোর ফলে আত্মবিশ্বাস স্পষ্টতই অনুরণিত হচ্ছিল তাঁর কণ্ঠে। অতিমারি পরবর্তী সময়ে নতুন করে প্রতিষ্ঠানটির বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটছে ও ঘটবে বলেই তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সারা লাইফস্টাইলের পরিচালক শরিফুন রেবা বললেন, পণ্যই মূল ফোকাস হলেও পুত্র রাফান ও কন্যা সারাফের নাম মিলিয়ে সারা লাইফস্টাইল নামটি উচ্চারণে সহজ ও মানু্ষের মুখে মুখে ফেরে এখন। আর এ ক্ষেত্রে শুরুতে তৈরি পোশাকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে ফেব্রিকের উৎস খুঁজে পেতে সুবিধা হলেও আলাদা ভাবে সাফল্যের জন্য তিনি সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করেন না রেবা। কারণ, দিনশেষে পণ্যের গুণগত মান ও ক্রেতার কাছে এর গ্রহণযোগ্যতাই কথা বলে। কথা প্রসঙ্গে জানান, তাঁর কন্যা সারাফ সাইয়ারা এখনই ওয়েস্টার্ন বিভাগের পোশাকের ডিজাইন ও উৎপাদনে নেতৃত্ব দেন। তাঁর নির্দেশনায় আসছে তাদের নতুন সাবব্র্যান্ড ‘ঢেউ’। এটা মূলত তরুণদের কথা মাথায় রেখেই করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চমৎকার একটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সাবব্র্যান্ডের অভিষেক হয়েছে।
সারা লাইফস্টাইলকে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল হতে হলে আরও বড় পরিসরে উৎপাদনে যেতে হবে, এটাই মূলকথা বলে জানা গেল খালেদ ও রেবার বয়ানে। সে ক্ষেত্রে পণ্যের গুণগত মান ও সবার নাগালের মধ্যে থাকা মূল্য—এই দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইন বিক্রয়ের কাঠামো তৈরিতে তাঁদের বিনিয়োগ অনেক। নিজেদের প্রচার-প্রসারের কাজটি করে নিজস্ব টিম, জানান তাঁরা। এভাবেই লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যাওয়া, এক অনন্য ওয়েস্টার্নধর্মী দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে সারা লাইফস্টাইলকে প্রতিষ্ঠিত করতে এসএম খালেদ ও শরিফুন রেবাকে খুবই আত্মপ্রত্যয়ী মনে হলো দীর্ঘ আলাপচারিতায়।
Source: হালফ্যাশন





